ট্রাম্পের ‘শাসন পরিবর্তন’ হুমকির জবাবে আইআরজিসি-র পাল্টা ব্যঙ্গ “ট্রাম্প ইউ আর ফায়ার্ড”

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘ইরান-ইসরায়েল বনাম যুক্তরাষ্ট্র’ যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসন পরিবর্তনের হুমকিকে রীতিমতো মশকরা ও ব্যঙ্গ করে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। আইআরজিসি-র (IRGC) এক মুখপাত্র ট্রাম্পের চিরচেনা রিয়ালিটি শো স্টাইল ব্যবহার করে তাঁকে লক্ষ্য করে বলেছেন, “ইউ আর ফায়ার্ড!” (আপনি বহিষ্কার)।

আইআরজিসি-র খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জুলফাঘারি এক ভিডিও বার্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই কড়া মন্তব্য করেন। তিনি ট্রাম্পের ব্যবহৃত বিশেষ ভঙ্গি ও তাঁর বিখ্যাত ‘অ্যাপ্রেন্টিস’ শো-র সংলাপ অনুকরণ করে তাঁকে উপহাস করেন। জুলফাঘারি ইঙ্গিত দেন যে, ট্রাম্পের এই অযৌক্তিক হুমকিগুলো কেবল বিশ্বমঞ্চে তাঁকে হাসির পাত্রে পরিণত করছে।

ট্রাম্পের ‘ভেনেজুয়েলা মডেল’ ও হামলার হুমকি:

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের বিকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করছে। তিনি হুঙ্কার দিয়েছিলেন যে, ইরানে অত্যন্ত কঠোরভাবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটানো হবে। এক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে বলেন, “হয়তো আমরা ভেনেজুয়েলার মতো (জুয়ান গুইদোর মতো) একজন নেতা খুঁজে পাব অথবা একটি যৌথ নেতৃত্ব ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।” ট্রাম্প আরও সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর ‘বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখবে’।

নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রেক্ষাপট:

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে ওমানের মধ্যস্থতায় যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলছিল, ঠিক তখনই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বড় ধরনের সামরিক আগ্রাসন (অপারেশন এপিক ফিউরি) শুরু করে। বর্তমানে এই যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। যুদ্ধের মধ্যেই ট্রাম্প আরব দেশগুলোর কাছে যুদ্ধের ব্যয়ভার মেটাতে এবং সংঘাত বন্ধের শর্ত হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অঙ্কের দাবি তুলেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর চাউর হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি:

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, তেহরান কোনো ধরনের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। বরং যেকোনো সম্মুখ সমর মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘শাসন পরিবর্তন’ বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর পরিকল্পনা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top