বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) পার্লামেন্টে একটি বিশেষ মোশন বা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) পার্লামেন্টের সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েড এই মোশনটি উত্থাপন করেন। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েড তার উত্থাপিত প্রস্তাবে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতেও অস্ট্রেলিয়ার সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
নির্বাচন ও গণতন্ত্রের বিজয়:
মোশনে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এটিই ছিল বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এক বিশাল বিজয় লাভ করেছে। অ্যাবিগেইল বয়েড নির্বাচন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে জানান, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি ছিল, যা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
জুলাই জাতীয় সনদ ও সংস্কার:
প্রস্তাবে শুধুমাত্র নির্বাচনের বিজয়ই নয়, বরং ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদের ওপর অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের সাফল্যের কথাও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ৬০ শতাংশ ভোটার এই সনদের পক্ষে রায় দিয়েছেন, যাতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কারে ৮০টিরও বেশি প্রস্তাবনা রয়েছে। নতুন সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে বলে মোশনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিনন্দন বার্তা:
প্রস্তাবটির সমাপ্তিতে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করায় বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানানো হয়। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের এই নির্বাচন এবং নতুন সরকারের প্রতি অস্ট্রেলিয়ার এই সমর্থনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।







