মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন এক চরম নাটকীয় মোড় নিয়েছে। একদিকে বিশ্বের ২২টি শক্তিশালী দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে একজোট হয়েছে, অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে পাল্টা যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের সংকটের মেঘ তৈরি করেছে।
টাইমস অব ইসরায়েল ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সম্ভাব্য অবরোধ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ সচল রাখতে বিশ্বের ২২টি দেশ একটি যৌথ সামরিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ শুরু করেছে। এই জোটে ইউরোপের প্রভাবশালী রাষ্ট্র যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি ছাড়াও এশিয়ার শক্তিধর দেশ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া অংশ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনও এই নিরাপত্তা বলয়ে যুক্ত হয়েছে। দেশগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা এখন বৈশ্বিক অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের বাধা বা হামলা রুখতে তারা সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা তেল ও গ্যাস অবকাঠামোতে আক্রমণ বন্ধে অবিলম্বে সর্বাত্মক বিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
তবে এই বহুজাতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করতে নারাজ তেহরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি হুমকি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির কড়া জবাব দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ‘অযৌক্তিক ও কাণ্ডজ্ঞানহীন হুমকি’ রণক্ষেত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যারা ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানাবে, তাদের জন্য এই নৌপথ উন্মুক্ত থাকবে; তবে শত্রুভাবাপন্ন শক্তির জন্য পরিস্থিতি ভিন্ন হবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের এই অনমনীয় অবস্থান এবং ২২ দেশের পাল্টা জোট গঠনের ফলে হরমুজ প্রণালি এখন বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে এবং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।







