আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ও বন্ধ থাকবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব এবং বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ এবং ভবিষ্যতেও তা বন্ধ থাকবে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এই কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে আরো বলেছেন যে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে দেশের মানুষ চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আছে; বন্ধ আছে এবং বন্ধ থাকবে। বাকি যারা আছে, তারা কাজ করবে, করছেও।” তিনি মনে করেন, আওয়ামী লীগ মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু করার চেষ্টা করলেও তাতে কোনো লাভ হবে না, কারণ জনগণ তাদের একদম রিজেক্ট (প্রত্যাখ্যান) করে দিয়েছে।

গণতন্ত্র ও রাজনীতির স্বাভাবিক গতি:

আওয়ামী লীগের কিছু নেতার হঠাৎ সক্রিয় হওয়াকে গুরুত্ব দিতে নারাজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। তিনি বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ করে বেরিয়ে আসে, এগুলোকে খুব বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই।” গণতন্ত্রের স্বাভাবিক গতির ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “পলিটিকসটাকে চলতে দিন, লেট ডেমোক্রেসি মুভ ইন ইটস ওন ওয়ে। বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু দেখে রাজনীতি বা গণতন্ত্রের পথ আটকে দেওয়া ঠিক হবে না।” অর্থাৎ আওয়ামী লীগ বাদে অন্য সব রাজনৈতিক দল যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেই পরিবেশ বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য।

জনগণের রায়:

মির্জা ফখরুলের মতে, একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর জনগণই ঠিক করে দিয়েছে কার রাজনীতি করার অধিকার আছে। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরের দুঃশাসন ও চব্বিশের বিপ্লবের পর আওয়ামী লীগ নৈতিকভাবে রাজনীতি করার যোগ্যতা হারিয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখাটাই জন আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top