যুদ্ধের ২০ দিনেই নমনীয় যুক্তরাষ্ট্র; ইরানের তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ২০তম দিনেই নাটকীয়ভাবে নিজেদের কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং জ্বালানি তেশনের চরম সংকট এড়াতে তেহরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এই নমনীয় নীতির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি যখন টালমাটাল, তখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের অন্যতম প্রধান শত্রু ইরানের ওপর দেওয়া জ্বালানি বিধিনিষেধ শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে। ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ট্যাঙ্কারগুলোর চলাচলে যে বাধা ছিল, তা শিথিল করার কথা ভাবছে হোয়াইট হাউস। মূলত তেলের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে শিথিলতা ও মার্কিন কৌশল:

স্কট বেসেন্ট উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন প্রশাসন অত্যন্ত সচেতনভাবেই ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সুযোগ দিচ্ছে। এটি স্পষ্ট করছে যে, যুদ্ধের ২০ দিনের মাথায় এসে যুক্তরাষ্ট্র বুঝতে পেরেছে যে ইরানের তেল সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। এছাড়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব ‘স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ’ বা তেলের মজুদ থেকেও বিশ্ববাজারে তেল ছাড়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।

বিশ্লেষণ ও যুদ্ধের মোড় পরিবর্তন:

যুক্তরাষ্ট্রের এই পিছু হটাকে বিশ্লেষকরা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির প্রভাব এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের ফলাফল হিসেবে দেখছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও সম্প্রতি স্বীকার করেছে যে, ব্যাপক হামলা চালিয়েও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি বিন্দুমাত্র কমানো সম্ভব হয়নি। এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তটি যুদ্ধের ময়দানে ইরানের এক ধরনের কৌশলগত বিজয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। তবে এই নমনীয়তা কি কেবল তেলের বাজারের জন্য, নাকি বৃহত্তর কোনো কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরি করছে—তা নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে জল্পনা চলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top