ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এখন এক ভয়াবহ ও বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। একদিকে ইরানের স্পর্শকাতর পারমাণবিক স্থাপনায় রহস্যময় হামলার ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে এর পাল্টা জবাবে ইসরায়েলজুড়ে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্ষণ করছে ইরান। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আল-জাজিরার তথ্যমতে, ইরানের বুশেহর শহরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু’ বা ড্রোনের মাধ্যমে আঘাত হানা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘটা এই বিস্ফোরণের বিষয়টি জাতিসংঘ পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা (আইএইএ) এবং ইরান সরকার উভয়ই নিশ্চিত করেছে। যদিও এই হামলায় কেন্দ্রটির বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে আইএইএ মহাপরিচালক এই ঘটনাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন যে, পারমাণবিক স্থাপনায় এ ধরনের উস্কানিমূলক হামলা একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। ইরান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
এরই প্রেক্ষাপটে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও সংঘাতময় হয়ে উঠেছে। ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলী লারিজনী হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের এই ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ১৯২ জন ইসরায়েলি নাগরিক আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। আল-জাজিরা উল্লেখ করেছে যে, যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭২৭ জন ইসরায়েলিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১২-এর তথ্যমতে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কবার্তা জারির পর তেল আবিব সংলগ্ন গুশ দান এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এছাড়া হোলন শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেশ কিছু গাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে এবং কাফর কাসেম শহরের অন্তত চারটি স্থানে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও ভূপাতিত ধ্বংসাবশেষ থেকেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। দুই দেশের এই সংঘাত এখন আর কেবল সামরিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা পারমাণবিক নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল স্তরে পৌঁছে যাওয়ায় পুরো বিশ্ব এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সূত্র- সিএনএন, আলজাজিরা







