মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও সরবরাহ হ্রাসের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে জারিকৃত তেলের ‘রেশনিং’ বা বিক্রির সীমা তুলে নিচ্ছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামীকাল রোববার (১৫ মার্চ) সকাল থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্রাহকরা আগের মতো স্বাভাবিক পরিমাণে তেল কিনতে পারবেন।
জাপানে অবস্থানরত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ফোনে প্রথম আলোকে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগাম সতর্কতা হিসেবে রেশনিং করা হলেও ঈদযাত্রা ও জনভোগান্তি বিবেচনায় এই সীমা তুলে দেওয়া হচ্ছে।
নিচে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হলো:
রোববার থেকে স্বাভাবিক হচ্ছে জ্বালানি তেল সরবরাহ: উঠছে সব বিধিনিষেধ
ঢাকা ডেস্ক: গত ৬ মার্চ থেকে তেলের অস্বাভাবিক বিক্রি ও মজুত ঠেকাতে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য তেল কেনার সীমা বেঁধে দিয়েছিল সরকার। এর ফলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ বাড়ানোর দাবিতে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রেখেছিলেন মালিকেরা। এমন পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে সরকার সরবরাহ স্বাভাবিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মজুত ও আমদানির বর্তমান চিত্র:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ টন ডিজেল মজুত আছে, যা দিয়ে জরুরি চাহিদা মেটানো সম্ভব। মার্চ মাসে মোট ১৮টি তেলবাহী জাহাজ আসার কথা রয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৬টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া ২৭ মার্চের মধ্যে আরও ৬টি জাহাজ আসার সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভারত থেকে অতিরিক্ত তেল আমদানির উদ্যোগ:
ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় ভারত থেকে পাইপলাইন ও সমুদ্রপথে অতিরিক্ত তেল আমদানির জন্য নুমালিগড় রিফাইনারি ও ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানিকে চিঠি দিয়েছে বিপিসি। মার্চ ও এপ্রিল মাসে বাড়তি ডিজেল ও অকটেন সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে দেশটিকে।
জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য:
জাপানে ‘ইন্দো প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি’ সম্মেলনে অংশগ্রহণরত জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, “জ্বালানি সংকট এখন একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আমরা বিভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। দেশে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তাই ভীতি থেকে কেউ যেন অতিরিক্ত তেল কিনে ঘরে মজুত না করেন।”
গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সারণি
| জ্বালানির ধরন | দৈনিক চাহিদা (প্রায়) | বর্তমান মজুত (প্রায়) | দেশীয় উৎপাদন |
| ডিজেল | ১২,০০০ টন | ২,০০,০০০ টন | আমদানি নির্ভর |
| অকটেন | ১,২০০ টন | ১৬,০০০ টন | ৫০% |
| পেট্রল | ১,১০০ টন | ১৬,০০০ টন | ১০০% |







