পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত ও খুনের রাজনীতি শুরু করা হয়েছিল: বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে দুর্বল করার এক গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে অভিহিত করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর একটি হোটেলে ‘নেক্সাস ডিফেন্স অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, পিলখানায় মেধাবী সেনা কর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে মূলত দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছিল।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহের মাধ্যমে দেশে যে খুনের রাজনীতি শুরু হয়েছিল, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তার অবসান ঘটেছে। তিনি বলেন, “পিলখানার সেই ষড়যন্ত্রের রেশ শহীদ ওসমান হাদি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। জাতি আজ এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য জানতে চায়। আল্লাহ যদি কোনোদিন সুযোগ দেন, তবে আমরা এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করব ইনশাআল্লাহ।”

অনুষ্ঠানে শাপলা চত্বরে আলেম-ওলামাদের ওপর চালানো অভিযানের স্মৃতিচারণ করে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নিহতদের নিয়ে উপহাস করার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বলা হয়েছিল কেউ মারা যায়নি, সবাই রং ছিটিয়ে অভিনয় করছে—এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে এমন উপহাস পৃথিবীর কোথাও দেখা যায়নি।” ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন যে, দেশ এখন প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে মুক্তি চায়। জাতি এমন একটি পরিবেশ আশা করে যেখানে সবাই তাদের নাগরিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে চলতে পারবে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থান ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমবেদনা জানান।

রাজনৈতিক তাৎপর্য

বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন সংসদীয় ব্যবস্থায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত এবং বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা একটি প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। শহীদ পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে তিনি মূলত জাতীয় সংহতি ও ইনসাফ কায়েমের ওপর জোর দিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top