ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বিমানে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্যের সবারই মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই শোকাবহ সংবাদটি প্রকাশ করেছে।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী বিমানটি কোনো শত্রুপক্ষের হামলা কিংবা ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ (বন্ধুরাষ্ট্রের ভুলবশত হামলা)-এর কারণে বিধ্বস্ত হয়নি। বিমানটি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র (Operation Epic Fury) অংশ হিসেবে ইরানবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত ছিল এবং পশ্চিম ইরাকের বন্ধুসুলভ আকাশসীমায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নিহত ক্রু সদস্যদের পরিচয় এই মুহূর্তে গোপন রাখা হয়েছে। সামরিক নিয়ম অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাঁদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনার পরপরই সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে চারজন ক্রু নিহত হয়েছেন এবং বাকি দুজনকে উদ্ধারে তৎপরতা চলছে। তবে দীর্ঘ উদ্ধার অভিযানের পর সেন্টকম নিশ্চিত করে যে বিমানে থাকা ছয়জন সদস্যের কেউই বেঁচে নেই।
প্রাসঙ্গিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা। ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডে অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এই বিমান দুর্ঘটনাটি ঘটল। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আকাশপথে অধিক চাপে থাকা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। যদিও ইরান-পন্থি গোষ্ঠীগুলো বিমানটি ভূপাতিত করার দাবি করেছিল, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী তা স্পষ্টভাবেই নাকচ করে দিয়েছে।







