মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে ৪৩ হাজার মার্কিন নাগরিক; মোজতবা খামেনিকে উত্তর কোরিয়ার সমর্থন ও কিমের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের জেরে ওই অঞ্চল থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৪টি দেশে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজারেরও বেশি মার্কিন নাগরিক মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিরাপদে দেশে ফিরে গেছেন বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানিয়েছেন, নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার নাগরিককে সরাসরি সরকারি সহায়তায় সরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিরা ব্যক্তিগত উদ্যোগে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে দেশ ছেড়েছেন। নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্র দুই ডজনেরও বেশি চার্টার্ড ফ্লাইট পরিচালনা করলেও দেখা গেছে, মাত্র ৪০ শতাংশ আসন পূর্ণ হয়েছে; কারণ অধিকাংশ নাগরিকই সাধারণ যাত্রীবাহী বিমানে ফিরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ এখনও চলমান এবং প্রয়োজনে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ায় পিয়ংইয়ং তাঁকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া এই নির্বাচনকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ’ ও ‘গ্যাংস্টারসুলভ আচরণ’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

একই সময়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজের সামরিক শক্তি প্রদর্শনেও পিছিয়ে নেই। তিনি দেশটির সর্বাধুনিক রণতরি ‘চো হাইওন’ থেকে কৌশলগত ক্রুজ মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ পর্যবেক্ষণ করেছেন। কিম জোর দিয়ে বলেছেন যে, সম্ভাব্য যে কোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় পরমাণু সক্ষমতা অর্জন ও এর বিস্তার পিয়ংইয়ংয়ের জন্য অপরিহার্য। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তবে কিম স্পষ্ট করেছেন যে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই পিয়ংইয়ংকে একটি পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।

বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক সরিয়ে নেওয়ার এই ব্যাপক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক প্রসারণ বা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। অন্যদিকে, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার এই নতুন কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা এবং কিমের পরমাণু অস্ত্র প্রদর্শন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি নতুন ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top