ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে কাল; নেওয়া হবে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে এবং এই অধিবেশনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (১১ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। দীর্ঘ দেড় যুগের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এই সংসদ অধিবেশন জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই ঐতিহাসিক প্রথম অধিবেশন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকাল ১১টায় শুরু হবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আগামীকাল সেই ঐতিহাসিক দিন। ইনশাআল্লাহ, কালকে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে।” স্বৈরাচারী শাসনের অবসানের পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গঠিত এই সংসদের প্রতি দেশের মানুষের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে এবং সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে বদ্ধপরিকর।

অধিবেশনের কার্যসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আগামীকাল সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রারম্ভিক স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। তিনি দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন এবং নতুন সংসদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরবেন।” যেহেতু এখন পর্যন্ত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত হয়নি, সেহেতু অধিবেশন শুরুর সময় কে সভাপতিত্ব করবেন—এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিধি মোতাবেক তিনি উপস্থাপন করবেন, আহ্বান করবেন একজনকে সভাপতিত্ব করার জন্য। তাঁর সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন।” স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন এবং এরপর নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই প্রথম অধিবেশনটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দেশের মানুষ এই অধিবেশনের দিকে অত্যন্ত আগ্রহের সাথে তাকিয়ে আছে এবং আশা করছে যে, নতুন সংসদ দেশের সব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

উল্লেখ্য, এই অধিবেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণ গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হলো। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ বলতে সংবিধান সংস্কার, নির্বাচন ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো এবং বিগত সরকারের জবরদস্তিমূলক আইনগুলো বাতিলের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। সংসদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আইন প্রণয়ন করাই এখন নতুন সংসদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top