নির্বাচনি ইশতেহার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এর প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষরকে সরকার ধারণ করে এবং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত প্রতিটি বিষয় বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই জাতীয় সনদের সমালোচনা প্রসঙ্গে বলেন, এই সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং সরকার এতে স্বাক্ষর করেছে। যারা এখন সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচনের পর নিজেদের সুবিধা বুঝে এতে যুক্ত হয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই সনদে নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতের সুযোগ ছিল এবং রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সেই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে জনমত পেলে তা বাস্তবায়নের অধিকার রাখে।
সংবিধান ও আইনি কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সংবিধান মেনেই পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। গণভোট বা সংবিধান সংস্কারের যেকোনো উদ্যোগকে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে বিধিসম্মতভাবে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশ সম্পর্কে তিনি জানান, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এগুলো উপস্থাপন করা হবে এবং সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নেবে কোন অধ্যাদেশটি কীভাবে গৃহীত বা সংশোধিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন যে, সংসদ সদস্যরা সার্বভৌম প্রতীকের প্রতিনিধি এবং তাঁদের ভোটের সাংবিধানিক মর্যাদা অপরিসীম। জবরদস্তিমূলক শপথ বা অসংবিধানিক কোনো প্রক্রিয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সংবিধান সংরক্ষণের শপথের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বিচার বিভাগকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এমপি এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।







