যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে দাবি ট্রাম্পের; নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান খুব দ্রুতই সফল সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১০ মার্চ) ফ্লোরিডার ডোনাল শহরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, যুদ্ধটি পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুতগতিতে অগ্রসর হচ্ছে এবং ওয়াশিংটন তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

সংবাদটির বিস্তারিত এবং এর সাথে জড়িয়ে থাকা চাঞ্চল্যকর কিছু দাবি নিচে তুলে ধরা হলো:

ট্রাম্পের দাবি ও সামরিক অগ্রগতি

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইরানের ৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা, নৌবাহিনী এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় অংশ ধ্বংস করার দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত নিরসনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে তা নির্ধারণ করবে তেহরান, ওয়াশিংটন নয়।

নেতানিয়াহুর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা ও ইরানি গণমাধ্যমের দাবি

এদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে যে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর সরকারি বাসভবনে নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ওই হামলায় ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভর গুরুতর আহত হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এই খবরের সূত্র হিসেবে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে উল্লেখ করেছে।

গুজব না কি বাস্তবতা?

নেতানিয়াহুর মৃত্যু সংবাদটি এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের দাবির সপক্ষে কিছু পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে:

  • গত ৭ মার্চের পর থেকে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা বা জনসমক্ষে উপস্থিতি না থাকা।

  • নেতানিয়াহুর বাসভবনের চারপাশে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

  • মার্কিন বিশেষ দূত এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের রেকর্ডে তারিখের অস্পষ্টতা।

এর আগে গত ২ মার্চও একইভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর রটেছিল, যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো ‘গুজব’ হিসেবে চিহ্নিত করে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণ

নেতানিয়াহুর মতো একজন শীর্ষ নেতার মৃত্যু সংবাদ যদি সত্য হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দিতে পারে। তবে কোনো শক্ত প্রমাণ ছাড়া এই ধরনের সংবাদের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা যথেষ্ট সন্দিহান। এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের (Psychological Warfare) অংশ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top