কানাডার টরন্টোতে মার্কিন কনস্যুলেটে গুলিবর্ষণ; নাশকতার নেপথ্যে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার ছায়া

কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে মঙ্গলবার ভোরবেলা এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় ভোর প্রায় সাড়ে পাঁচটার দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ফুটেজ ও ছবিতে দেখা গেছে, কনস্যুলেট ভবনের প্রধান প্রবেশপথের কাচের দরজায় দুটি গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদন থেকে এই চাঞ্চল্যকর নাশকতার খবরটি সামনে এসেছে।

টরন্টো পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে গুলির বিকট শব্দ শোনার অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছে তারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পেয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, এই আকস্মিক হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পুলিশ বর্তমানে এলাকাটি ঘিরে রেখেছে এবং তদন্তের স্বার্থে কনস্যুলেট সংলগ্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত চলছে, এই হামলার পেছনে তার গভীর যোগসূত্র থাকতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও পশ্চিমা শক্তির মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই কানাডার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতামূলক হামলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। টরন্টো পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ইহুদি উপাসনালয় এবং ইরান সরকারের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এক ইরানি-কানাডীয় নাগরিকের মালিকানাধীন বক্সিং জিমেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা গুলিবর্ষণ করেছে। মার্কিন কনস্যুলেটে মঙ্গলবারের এই হামলা সেই ধারাবাহিক সহিংসতারই একটি অংশ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

কানাডার মতো শান্ত ও নিরাপদ দেশে কূটনৈতিক মিশনে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে টরন্টোর মতো মেগাসিটিতে একের পর এক ইহুদি ও ইরানি সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আঁচ এখন উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ, নাকি কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী এই নাশকতার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top