যাকাত বোর্ড পুনর্গঠনের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর; কমিটিতে থাকছেন মুফতি আবদুল মালেক ও শায়খ আহমাদুল্লাহ

দেশে দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে এবং যাকাত ব্যবস্থাপনাকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৯ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি যাকাত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, সুশৃঙ্খল ও আধুনিক করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

জাকাত বোর্ড পুনর্গঠন ও উচ্চপর্যায়ের কমিটি

বৈঠকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত ছিল বর্তমান ‘যাকাত বোর্ড’ পুনর্গঠন করা। এই লক্ষ্যে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। এই কমিটির সদস্য হিসেবে দেশের প্রথিতযশা আলেম ও ইসলামিক স্কলারদের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে, যাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • আল্লামা মুফতি আবদুল মালেক (খতিব, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ)।

  • শায়খ আহমাদুল্লাহ (চেয়ারম্যান, আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন)।

  • এ ছাড়াও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন ইসলামী অর্থনীতিবিদ ও বিশিষ্ট আলেম-ওলামাদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

আগামী ১০ দিনের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় পূর্ণাঙ্গ কমিটির সদস্যদের নাম প্রস্তাব করবে। এই কমিটি যাকাত সংগ্রহ, বণ্টন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এর প্রভাব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করবে।

দারিদ্র্য বিমোচনে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য

গত শনিবার (৭ মার্চ) আলেম-ওলামাদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী যে ১০-১৫ বছরের মধ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, সোমবারের বৈঠক ছিল সেই পরিকল্পনারই প্রথম প্রশাসনিক ধাপ। বৈঠকে আলোচনা হয় যে, সঠিক এবং লক্ষ্যভিত্তিক যাকাত বণ্টন করা গেলে দেশের বিশাল এক জনগোষ্ঠীকে খুব দ্রুত স্বাবলম্বী করে তোলা সম্ভব।

বৈঠকে ধর্মমন্ত্রী ছাড়াও ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন।

যাকাত বোর্ড পুনর্গঠন ২০২৬ব্যবস্থাপনায় শায়খ আহমাদুল্লাহর মতো আধুনিক ও স্বচ্ছ কর্মপদ্ধতিতে বিশ্বাসী ব্যক্তিত্ব এবং মুফতি আবদুল মালেকের মতো প্রাজ্ঞ আলেমকে যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থা বৃদ্ধি করবে এবং বিত্তবানদের সরকারি জাকাত তহবিলে অর্থ প্রদানে উৎসাহিত করবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top