ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান হোতা ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। গত শনিবার দিবাগত রাতে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় পুলিশের বিশেষ শাখা স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করতে সক্ষম হয়। মূলত অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে অনুপ্রবেশ এবং সেখানে আত্মগোপন করে থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ রবিবার তাদের স্থানীয় আদালতে হাজির করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ।
স্মর্তব্য যে, গত বছরের শেষভাগে রাজধানীর অন্যতম আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজ শেষে পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশাযোগে যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার তদন্তে নেমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তকারীদের দাবি অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল। চার্জশিট অনুযায়ী, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদ নিজেই শরিফ ওসমানের ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েছিলেন এবং আলমগীর হোসেন তাকে মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছিলেন।
পুলিশি তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, এই পুরো হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশাতা ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের তৎকালীন প্রভাবশালী সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী। ঘটনার পরপরই মূল ঘাতকরা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন। বর্তমানে তাদের গ্রেফতারের ফলে দেশের আইনি প্রক্রিয়ায় এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
এই গ্রেফতারের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচার পাওয়ার পথে একটি বড় বাধা অপসারিত হলো। পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার খুব শীঘ্রই ইন্টারপোলের মাধ্যমে বা দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আবেদন করতে পারে। এই পদক্ষেপটি প্রমাণ করে যে, অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে থাকলেও শেষ রক্ষা পাওয়া অসম্ভব।







