যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান আরও বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রথমবারের মতো তেহরানের অভ্যন্তরে থাকা জ্বালানি তেলের মজুদাগার এবং শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এক নতুন সংকটের দিকে মোড় নিয়েছে।
শনিবার ও রোববারের (৮ মার্চ) সর্বশেষ ঘটনাবলির সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
তেহরানে প্রথমবারের মতো তেল শোধনাগারে হামলা
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী তাদের হামলার পরিধি বাড়িয়ে এখন ইরানের অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড অর্থাৎ জ্বালানি খাতের ওপর আঘাত হানছে। তেহরানের তেল মজুদাগার ও শোধনাগারগুলোতে এই প্রথম সরাসরি হামলার খবর পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
পানি শোধনাগার লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলা
জ্বালানির পাশাপাশি এখন সুপেয় পানির উৎসগুলোও যুদ্ধের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।
-
বাহরাইন: বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের একটি ড্রোন হামলায় দেশটির একটি পানি শোধন কেন্দ্রের (Desalination Plant) অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
-
ইরান: এই ঘটনার ঠিক একদিন আগে ইরান অভিযোগ করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কেশম দ্বীপে (Qeshm Island) একটি স্বাদু পানি শোধন কেন্দ্রে বোমা হামলা চালিয়েছে। তেহরান একে একটি ‘ভয়াবহ নজির’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার নির্বাচনের পথে অগ্রগতি
ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞ পরিষদ (Assembly of Experts) একজন উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ ঐকমত্যে’ পৌঁছেছে বলে পরিষদের একজন সদস্য নিশ্চিত করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের এই ডামাডোলের মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, যদি কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা না হয়, তবে ইরান সেই সব দেশে আক্রমণ করবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত নতুন করে ইরানি হামলার খবর দিয়েছে।
লেবাননের হোটেলে ইসরায়েলি বিমান হামলা
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের একটি হোটেলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এই হামলার ফলে লেবানন ফ্রন্টেও উত্তেজনা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং শহরটি থেকে সাধারণ মানুষের সরে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত পর্যবেক্ষণ
-
সম্পদ যুদ্ধ: জ্বালানি ও পানির মতো মৌলিক সম্পদগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
-
আঞ্চলিক অস্থিরতা: পেজেশকিয়ানের ক্ষমা চাওয়ার পরও উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত থাকা ইঙ্গিত দেয় যে, ইরানের সামরিক বাহিনীর সব শাখা হয়তো প্রেসিডেন্টের নির্দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করছে না।
-
নেতৃত্বের পরিবর্তন: যুদ্ধ চলাকালীন সময়েই সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ইরানের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রমাণের একটি চেষ্টা হতে পারে।
সূত্র- আলজাজিরা







