দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে গতিশীল করতে এবং দীর্ঘদিনের দাবি ‘পেপাল’ (PayPal) বাংলাদেশে চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে সরকার। শনিবার (৭ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
নবগঠিত এই কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
কমিটির সদস্যবৃন্দ
প্রশাসনিক ও আর্থিক সমন্বয়ের লক্ষ্যে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
-
সভাপতি: রেহান আসিফ আসাদ (প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা)।
-
সদস্যসচিব: সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।
-
সদস্য: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
-
সদস্য: গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক।
-
সদস্য: সচিব, অর্থ বিভাগ।
-
সদস্য: চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
কমিটির ৫টি প্রধান দায়িত্ব
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটি মূলত দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও ফ্রিল্যান্সিং খাতের উন্নয়নে কাজ করবে:
১. পার্ক পরিচালনা: দেশের সব হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোকে কার্যকরভাবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া।
২. ওয়ার্কিং স্পেস: ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিকর্মীদের জন্য স্বল্প বা সুলভ মূল্যে কর্মক্ষেত্র (Working Space) প্রদানের নীতিমালা তৈরি করা।
৩. পেপাল চালুকরণ: বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে পেপাল-এর কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে চূড়ান্ত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ।
৪. দক্ষ জনশক্তি: আইসিটি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা।
৫. সদস্য কো-অপ্ট: প্রয়োজনে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক তাৎপর্য
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের জন্য পেপাল-এর অভাব বোধ করছিলেন। এই কমিটিতে স্বয়ং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের অন্তর্ভুক্তি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আইনি ও আর্থিক জটিলতা কাটিয়ে এবার দ্রুতই পেপাল বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করতে পারে। এছাড়া হাইটেক পার্কগুলোকে কেবল ভবন হিসেবে ফেলে না রেখে সেগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগটি আইসিটি খাতের রপ্তানি আয় বাড়াতে সহায়ক হবে।







