ট্রাম্প ইরানের আত্মসমর্পণের জবাবে পেজেশকিয়ান প্রত্যাখ্যান করে বললেন “এটি একটি দিবাস্বপ্ন যা তাঁরা কবরে নিয়ে যাবে”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের ভয়াবহতা আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবি জানালেও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

শনিবার (৭ মার্চ) পর্যন্ত পরিস্থিতির মূল আপডেটগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ট্রাম্পের দাবি ও পেজেশকিয়ানের শক্ত অবস্থান

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ইরানের জন্য কোনো ধরনের আপসের পথ বন্ধ করে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ (Unconditional Surrender) আল্টিমেটাম দিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইরান আত্মসমর্পণ করলে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে একটি ‘গ্রহণযোগ্য’ নেতৃত্ব নির্বাচনে সহায়তা করবে।

এর জবাবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, “আত্মসমর্পণের এই দাবি একটি দিবাস্বপ্ন, যা তাঁরা কবরে নিয়ে যাবেন।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইরান কোনো দেশের ওপর আক্রমণ করতে চায় না, তবে আক্রান্ত হলে তারা সর্বশক্তি দিয়ে লড়বে। তবে তিনি আঞ্চলিক দেশগুলোকে আশ্বস্ত করে বলেন, কোনো দেশ যদি ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার না করে, তবে ইরান ওই প্রতিবেশী দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না।

আইআরজিসি-র হুঁশিয়ারি ও বৈরুতে তাণ্ডব

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (IRGC) ঘোষণা করেছে যে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যেকোনো সামরিক ঘাঁটি বা স্বার্থ এখন তাদের ‘প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু’ (Primary Target)। এদিকে লেবাননের পূর্বাঞ্চলীয় বেকা উপত্যকার নবি চিত (Nabi Chit) শহরে ইসরায়েলি বিমান ও স্থল হামলায় অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন। বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি থেকেও হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শনিবার অন্তত ২৩টি ড্রোন এবং তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে:

  • রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত মার্কিন কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ছোঁড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে।

  • দেশটির দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ শায়বাহ তেলক্ষেত্রে (Shaybah Oilfield) হামলার জন্য পাঠানো একঝাঁক ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতির প্রধান ঝুঁকি

  • ভৌগোলিক বিস্তার: যুদ্ধ এখন আর ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; সৌদি আরব ও লেবানন সরাসরি সংঘাতের ফ্রন্টলাইনে চলে এসেছে।

  • জ্বালানি নিরাপত্তা: শায়বাহ তেলক্ষেত্রে হামলার চেষ্টা বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, যা ইতিমধ্যে ১০০ ডলারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

  • কূটনৈতিক অচলাবস্থা: ট্রাম্পের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ এবং মোজতবা খামেনির উত্তরসূরি হওয়ার পথে মার্কিন বাধার ফলে মধ্যস্থতার পথ প্রায় রুদ্ধ হয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top