ট্রাম্পের ‘শান্তি পরিষদ’ থেকে পিছু হটল ইন্দোনেশিয়া: আলোচনা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তজনা এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace) বা শান্তি পরিষদ উদ্যোগ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। শনিবার (৭ মার্চ) ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আলোচনা স্থগিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থগিতের প্রধান কারণসমূহ

ইন্দোনেশীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি কৌশলগত ও রাজনৈতিক কারণ রয়েছে:

  • আঞ্চলিক অস্থিরতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিধি বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলের মনোযোগ এখন গাজা পুনর্গঠন বা শান্তি প্রক্রিয়ার চেয়ে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের দিকে বেশি। সুগিওনো জানান, এই পরিস্থিতি উদ্যোগভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার বদলে দিয়েছে।

  • উপসাগরীয় অংশীদারদের উদ্বেগ: জাকার্তা এখন উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কারণ চলমান হামলা ও উত্তেজনা তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে সরাসরি প্রভাবিত করছে।

  • অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ: ট্রাম্পের এই উদ্যোগে ইন্দোনেশিয়ার অংশগ্রহণ শুরু থেকেই দেশটির ভেতরে কড়া সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে প্রভাবশালী ইন্দোনেশীয় উলামা কাউন্সিল (MUI) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী মনে করে, ট্রাম্পের নেতৃত্বে কোনো জোটে যোগ দিলে ফিলিস্তিনিদের প্রতি জাকার্তার দীর্ঘদিনের নৈতিক সমর্থন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

বোর্ড অফ পিস (BoP) কী?

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গাজা যুদ্ধ পরবর্তী পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত করতে এই বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এটি মূলত জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে একটি বিকল্প বৈশ্বিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল। এতে গাজায় ২০,০০০ শান্তিরক্ষী পাঠানোর কথা ছিল, যেখানে ইন্দোনেশিয়া একটি বড় সামরিক ইউনিট পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর এই প্রকল্পের নৈতিকতা ও কার্যকারিতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

ইন্দোনেশিয়ার মতো একটি প্রভাবশালী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র এই উদ্যোগ থেকে সরে আসায় ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য শান্তি পরিকল্পনা বড় ধরনের ধাক্কা খেল। এটি প্রমাণ করে যে, ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক আগ্রাসনের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনেক মিত্র দেশের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top