দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন চিন্তার উন্মেষ ঘটাতে ‘অলটারনেটিভস ন্যাশনাল অর্গানাইজিং’ (Alternatives National Organizing) নামে একটি নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটির ‘ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই নতুন প্ল্যাটফর্মের নেপথ্যে রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং এনসিপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাজনূভা জাবিন। মূলত তরুণ অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনীতি-সচেতন মেধাবীদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হয়েছে।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো:
-
তরুণদের অংশগ্রহণ: দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় ও কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
-
জুলাইয়ের চেতনা: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ‘হৃত স্বপ্ন’ পুনরুদ্ধার করা।
-
ভবিষ্যৎ রূপকল্প: ‘দায় ও দরদের বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
সাংগঠনিক কার্যক্রমের রূপরেখা
ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্যরা সারা দেশে সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃতির কাজ করবেন। তাদের প্রাথমিক দায়িত্বগুলোর মধ্যে রয়েছে:
-
সারা দেশের রাজনীতি-সচেতন তরুণদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন।
-
জুলাই বিপ্লবের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকর্মীদের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
-
জেলা পর্যায়ে সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনতাকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করা।
ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ
কমিটির সংগঠক হিসেবে মাহফুজ আলম ও ডা. তাজনূভা জাবিন ছাড়াও রয়েছেন— আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ এবং হাসান আলী।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
মাহফুজ আলমের মতো ব্যক্তিত্বের নেতৃত্বে নতুন এই প্ল্যাটফর্মের আগমন দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন বা প্রধান বিরোধী দলগুলোর বাইরে যারা একটি ‘বিকল্প’ রাজনৈতিক শক্তি খুঁজছেন, তাদের কাছে এই সংগঠনটি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে তারা কতটা জনসমর্থন তৈরি করতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।







