জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বছর স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশগঠনে সার্বিক অবদানের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে (মরণোত্তর) এই সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক পুরস্কারে ভূষিত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ এবং মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। চিকিৎসাবিদ্যায় অবদানের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর) এবং সংস্কৃতিতে বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এ কে এস হানিফ (হানিফ সংকেত) ও প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী বশির আহমেদ (মরণোত্তর) এই পুরস্কার পাচ্ছেন।
ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য টেবিল টেনিস তারকা জোবেরা রহমান (লিনু), পল্লী উন্নয়নে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং সমাজসেবা/জনসেবায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর), গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, এস ও এস চিলড্রেন্স ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ, সাইদুল হক এবং মাহেরীন চৌধুরী (মরণোত্তর) পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।
এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, জনপ্রশাসনে পি এইচ ডি কাজী ফজলুর রহমান (মরণোত্তর) এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার (মুকিত মজুমদার বাবু) এই পুরস্কার পাচ্ছেন। গবেষণা ও প্রশিক্ষণে অবদানের জন্য মোহাম্মদ আবদুল বাকী, অধ্যাপক ড. এম এ রহিম এবং অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়াকে মনোনীত করা হয়েছে।
পুরস্কারের তাৎপর্যপূর্ণ দিক
-
রাজনৈতিক স্বীকৃতি: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে তাঁর দল বিএনপি বর্তমানে ক্ষমতায় থাকায়।
-
জনসেবার মূল্যায়ন: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমূলক কাজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
-
সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার মর্যাদা: হানিফ সংকেত এবং জোবেরা রহমান লিনুর মতো ব্যক্তিত্বদের পুরস্কার প্রদান দেশের সংস্কৃতি ও ক্রীড়াঙ্গনের অবদানকে সম্মানিত করেছে।







