য় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘দলীয়করণ’ নিয়ে যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকার একটি অভিজাত হোটেলে বিদেশি কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন।
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দলীয়করণের অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুদকের (দুদক) মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুকৌশলে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি একে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ‘অশনিসংকেত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন:
-
এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হবে।
-
এগুলোকে কেবল জনকল্যাণে নিয়োজিত রাখা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের দাবি
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে এনসিপি-র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম বলেন:
-
জুলাই সনদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের সংস্কার প্রক্রিয়া যে গতিতে চলার কথা ছিল, তা বর্তমানে ব্যাহত হচ্ছে।
-
তিনি অবিলম্বে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের জোর দাবি জানান। উল্লেখ্য যে, এনসিপি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘জুলাই সনদ’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেছে এবং এটি বাস্তবায়নকেই তাদের প্রধান সংসদীয় ম্যান্ডেট হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষণাত্মক পর্যবেক্ষণ
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্যটি এমন এক সময়ে এল যখন বাংলাদেশ একটি নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনের পর এনসিপি সংসদে বিরোধী দলের একটি শক্তিশালী অংশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাদের এই দাবিগুলো মূলত সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাতে ‘নতুন বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের প্রতিশ্রুতিগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে।







