ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি: তেহরানে নতুন হামলা ও ইরানের পাল্টা জবাব

ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। ইরানের বিভিন্ন শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের খবর আসছে। ইসরাইল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের ওপর নতুন করে হামলা শুরু করেছে।

শনিবার থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ১২৩০ জন নিহত হয়েছে। ইসরাইলি বাহিনী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকণ্ঠের সম্পূর্ণ এলাকার জন্য জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। এই এলাকায় লাখ লাখ মানুষের বসবাস।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে মেনে নেওয়া যাবে না। তিনি দাবি করেন, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকা উচিত।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইরাক সীমান্তে “সন্ত্রাসী গতিবিধি” বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র কুর্দি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ কার্গো জাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ পথ এড়িয়ে চলছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাচ্ছে। উভয় পক্ষই আরও বড় আকারের প্রতিশোধের হুমকি দিচ্ছে।

বৈরুতে উচ্ছেদ অভিযান ও মানবিক সংকট

ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলির (Dahieh) বাসিন্দাদের জন্য পূর্ণ উচ্ছেদ আদেশ জারি করেছে। এই এলাকাটি লক্ষ লক্ষ মানুষের আবাসস্থল। এই আদেশের ফলে পুরো অঞ্চলটিতে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ

নিহত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর মেজ ছেলে মোজতবা খামেনির নাম আলোচনায় এলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে নাকচ করে দিয়েছেন। ট্রাম্প গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ওয়াশিংটনের এই সরাসরি হস্তক্ষেপের ঘোষণা তেহরানের সাথে সংঘাতকে রাজনৈতিকভাবে আরও জটিল করে তুলেছে।

কুর্দি বিদ্রোহ ও সীমান্ত উত্তেজনা

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইরাক সীমান্তে ‘সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা’ বৃদ্ধির ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলের কুর্দি বাহিনীর সাথে আলোচনা চালাচ্ছে। তেহরানের বিরুদ্ধে একটি সশস্ত্র অভ্যুত্থান ঘটানোর উদ্দেশ্যে কুর্দিদের অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে সজ্জিত করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন, যার ফলে সীমান্তে ব্যাপক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করেছে ইরান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top