প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পূর্বনির্ধারিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইফতার মাহফিল বাতিল করেছেন এবং সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা ও প্রত্যাবর্তনকালীন রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পৃথক দুটি ঘোষণায় এসব তথ্য জানানো হয়।
ইফতার মাহফিল বাতিল ও সংযম প্রদর্শন
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার মাহফিলগুলো বাতিল করা হয়েছে।
-
বাতিলকৃত কর্মসূচি: ৮ মার্চ রাজনীতিবিদদের সম্মানে এবং ১০ মার্চ গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মানে নির্ধারিত ইফতার মাহফিল।
-
অপরিবর্তিত কর্মসূচি: ৬ মার্চ কূটনীতিকদের এবং ৭ মার্চ এতিম, আলেম ও ওলামাদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
-
পারিবারিক ইফতার: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি সাধারণত নিজের বাসভবনে পরিবারের সঙ্গেই ইফতার করছেন, যা অপচয় রোধ ও সংযমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাষ্ট্রাচারে পরিবর্তন: প্রটোকল সংক্ষেপণ
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশযাত্রা এবং স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকালে বিমানবন্দরে দীর্ঘ প্রটোকল বা অভ্যর্থনা জানানোর প্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক নতুন বিধিমালায় জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে বিমানবন্দরে কেবল নিম্নোক্ত চারজন পদস্থ ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন:
১. মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠতম একজন মন্ত্রী।
২. জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।
৩. মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
৪. প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
এর আগে প্রচলিত প্রটোকল অনুযায়ী মন্ত্রিসভার অধিকাংশ সদস্য, সামরিক ও অসামরিক বাহিনীর প্রধানগণ এবং ঊর্ধ্বতন আমলাদের বিশাল বহর উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা ছিল।
পরিবর্তনের তাৎপর্য
-
জনগণের ভোগান্তি হ্রাস: বিমানবন্দরে ভিআইপি প্রটোকল কমানোর ফলে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি এবং নিরাপত্তা জনিত কড়াকড়ি অনেকাংশে কমে আসবে।
-
সময় ও অর্থের সাশ্রয়: সরকারি কর্মকর্তাদের বিশাল বহর বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকার পরিবর্তে নিজ নিজ দপ্তরে কাজে মনোনিবেশ করার সুযোগ পাবেন।
-
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি: জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান পরিহার করে সংযমী জীবনযাপনের মাধ্যমে একটি নতুন প্রশাসনিক দৃষ্টান্ত স্থাপনের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।







