তারেক রহমান সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় রদবদল: ৮ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপদেষ্টার দপ্তর পুনর্বণ্টন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল করা হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আটজন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করে তাঁদের দায়িত্বাধীন মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দুই উপদেষ্টার কাঁধে বাড়তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী এই পরিবর্তন আনেন।

প্রতিমন্ত্রীদের নতুন দায়িত্বসমূহ-

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীদের একক বা সুনির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিবদ্ধ করার লক্ষ্যেই এই পুনর্গঠন করা হয়েছে। নতুন বিন্যাস অনুযায়ী:

  • মো. শরীফুল আলম: বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তাঁকে কেবল বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কমিয়ে তাঁকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

  • হাবিবুর রশিদ: সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • মো. রাজিব আহসান: তাঁকে নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

  • জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি): অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে তাঁকে কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • ফারজানা শারমীন: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে তাঁকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

  • মো. নুরুল হক নুর: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কমিয়ে তাঁকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছে।

  • ববি হাজ্জাজ: শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিবর্তে তাঁকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুই শক্তিশালী উপদেষ্টার দায়িত্ব বৃদ্ধি-

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ জন উপদেষ্টার মধ্যে দুই জ্যেষ্ঠ নেতার রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রশাসনিক দায়িত্ব আরও বাড়ানো হয়েছে।

  • নজরুল ইসলাম খান: তিনি রাজনৈতিক উপদেষ্টার পাশাপাশি এখন থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।

  • রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ: রাজনৈতিক উপদেষ্টার পাশাপাশি তাঁকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রী পদমর্যাদায় এই ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ পেয়েছিলেন। প্রশাসনের গতিশীলতা আনতেই এই দপ্তর বণ্টন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রদবদলের প্রশাসনিক দিক-

  • কাজের গতি বাড়ানো: প্রতিমন্ত্রীদের একাধিক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট একটি বা দুটি দপ্তরে নিবদ্ধ করায় প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে।

  • উপদেষ্টাদের সরাসরি ভূমিকা: জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার মাধ্যমে প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও সমন্বয় সুসংহত করা হয়েছে।

  • বিভাগীয় বিন্যাস: পরিবহন ও সেতুর মতো বড় খাতগুলোতে একাধিক প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের মাধ্যমে কাজের বোঝা ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top