বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কুক্ষিগত করার তীব্র সমালোচনা করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অপরাধ ছিল গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রকে দলীয়করণ করা। এমনকি পুলিশ বাহিনীকে একটি নির্দিষ্ট দলের অনুগত বাহিনীতে রূপান্তর এবং প্রেস ক্লাবের মতো সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় ক্লাবে পরিণত করার ফলে এসব জাতীয় প্রতিষ্ঠান জনগণের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছিল।
বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিএমইউজে) যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে।
প্রতিষ্ঠানের ওপর ফ্যাসিবাদের আঘাত
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, কোনো প্রতিষ্ঠানকে যখন দলীয়করণ, ব্যক্তিকরণ বা পারিবারিকীকরণ করা হয়, তখন সেটি আর তার অর্পিত জাতীয় দায়িত্ব পালন করতে পারে না। তিনি বলেন, “বিগত সরকার খুন, গুম এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করার দায়ে আজ জনগণের কাছে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত। এই কর্মকাণ্ডের ফলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈধতা হারিয়ে ফেলেছে।” বিশেষ করে প্রেস ক্লাবের মতো মুক্তমনা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করাকে তিনি ফ্যাসিবাদের চরম রূপ হিসেবে অভিহিত করেন।
জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি
জহির উদ্দিন স্বপন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, বিগত দিনের কোনো অপরাধকেই তামাদি হতে দেওয়া হবে না। প্রতিটি অপরাধীকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “জনগণের ম্যান্ডেট কেবল প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য নয়। আমাদের লক্ষ্য একটি টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তৈরি করা। আইনের বাইরে গিয়ে কাউকে নিজের হাতে বিচারের দায়িত্ব তুলে নিতে দেওয়া হবে না।”
সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।







