মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন চরমে। গত পাঁচ দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের ভয়াবহতা এখন কেবল মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সমুদ্র ও আকাশে সংঘাতের বিস্তার
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, শ্রীলঙ্কা উপকূলের অদূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি মার্কিন সাবমেরিন টর্পেডোর আঘাতে ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ (IRIS Dena) ডুবিয়ে দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাবমেরিন থেকে টর্পেডো ছুড়ে শত্রু জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার এটিই প্রথম ঘটনা বলে দাবি করেছেন তিনি। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী এ পর্যন্ত ৮৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং ৩২ জন ক্রুকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, তুরস্কের আকাশসীমায় প্রবেশের মুখে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে ন্যাটোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে তুরস্কের দোরগোড়ায় প্রতিহত করে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ধ্বংস হওয়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হাতায় প্রদেশের দোরতীয়ল জেলায় পড়েছে, তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের রূপরেখা
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ডেমোক্র্যাটিক দলের আইনপ্রণেতারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, যে লক্ষ্য নিয়ে এই হামলা শুরু করা হয়েছে তার কোনো সুনির্দিষ্ট শেষ নেই এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘস্থায়ী ‘উন্মুক্ত যুদ্ধের’ দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আইনপ্রণেতাদের আশঙ্কা, বিমান হামলার পর এখন যেকোনো সময় ইরানে স্থল অভিযান (Ground Assault) শুরু হতে পারে, যা পুরো অঞ্চলে এক অনিয়ন্ত্রিত মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি এই অভিযানকে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করার ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র লক্ষ্য কোনো জাতি গঠন বা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়, বরং সরাসরি সামরিক বিজয়।
বর্তমান পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক দিক
-
ভৌগোলিক বিস্তার: যুদ্ধ এখন লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগর ছাড়িয়ে ভারত মহাসাগরের শ্রীলঙ্কা উপকূল পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
-
ন্যাটোর সংশ্লিষ্টতা: তুরস্কের আকাশে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের ঘটনা ন্যাটোকে সরাসরি এই যুদ্ধের অংশীদার করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
-
স্থল অভিযানের শঙ্কা: ট্রাম্প প্রশাসন স্থল সেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ না করায় একটি পূর্ণমাত্রার দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
সূত্র- আলজাজিরা







