মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইরান এবং ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণ এখন এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে বলে এক উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে চালানো এই বিধ্বংসী হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে এই চরম বিপর্যয়ের মধ্যেও তেহরান নতি স্বীকার করতে নারাজ। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ওয়াশিংটনের সাথে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে যে খবর চাউর হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সংঘাতের আঁচ এখন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। কাতার তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা ইরানের দুটি সু-২৪ (Su24) যুদ্ধবিমান সফলভাবে ভূপাতিত করার দাবি করেছে। কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা কেবল যুদ্ধবিমানই নয়, বরং সাতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং পাঁচটি ইরানি ড্রোনকেও আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়েতে এক অদ্ভুত ও নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটি নয় বরং কুয়েতি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুল নিশানায় বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে সৌভাগ্যবশত বিধ্বস্ত বিমানগুলোর সকল ক্রু ও পাইলট জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে একে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল হিসেবে অভিহিত করেছে।
এদিকে লেবানন সীমান্তও এখন আগুনের কুণ্ডলী। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে উত্তর ইসরাইলে রকেট হামলার জবাবে ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১ জন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির অবনতি দেখে এবং দেশটিকে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ থেকে বাঁচাতে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী এক নজিরবিহীন ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দেশটিতে হিজবুল্লাহর সকল ধরনের সামরিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে প্রতিটি দেশ তাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং বেসামরিক মানুষের লাশের মিছিল ক্রমেই দীর্ঘতর হচ্ছে।
সূত্র- আলজাজিরা







