বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আর একটিও হত্যাকাণ্ড যেন না ঘটে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আমি স্পষ্টভাবে বলেছি, সীমান্ত হত্যা আমাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যু। ভবিষ্যতে যেন আর কোনো প্রাণহানির খবর শুনতে না হয়, সে জন্য বিজিবি (BGB) ও বিএসএফ-এর (BSF) মধ্যে নিয়মিত বৈঠক এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।” এর জবাবে ভারত সরকার এবং বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে পূর্ণ আন্তরিকতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। সালাহউদ্দিন আহমেদ উল্লেখ করেন, একটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্যসূচি ও ফলাফল
| আলোচনার বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ ও সিদ্ধান্ত |
| সীমান্ত হত্যা | বিএসএফ-কে মারণাস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশনা এবং বিজিবি-বিএসএফ সমন্বয় বৃদ্ধি। |
| ভারতের অবস্থান | সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত আন্তরিক এবং তাদের বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। |
| নিরাপত্তা সহযোগিতা | উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও অপরাধ দমনে ঐক্যমত। |
| দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক | পারস্পরিক মর্যাদা ও স্বার্থের ভিত্তিতে (Mutual Interest & Dignity) সম্পর্ক বজায় রাখা। |
| ব্যবসা-বাণিজ্য | প্রতিবেশী হিসেবে বাণিজ্যিক লেনদেন ও ট্রানজিট ইস্যু নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা। |
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের বিশেষ দিক
-
মর্যাদাভিত্তিক সম্পর্ক: বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে যেকোনো সহযোগিতা চায় কেবল ‘পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার’ ভিত্তিতে।
-
সহিংসতা পরিহার: সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি গুলি ছুড়ে নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
-
ভবিষ্যৎ নির্মাণ: অতীতের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো কাটিয়ে উঠে দুই দেশের মানুষের কল্যাণে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি।







