মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও পশ্চিমা শক্তিগুলোর মধ্যে চলমান সংঘাতের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। গত কয়েক দিনে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো বড় ধরনের আকাশপথে অভিযানে আমিরাতে অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্য দুই নিহত ব্যক্তি পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইরানি বাহিনী দেশটিতে ১৬৫টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ৫৪১টি ড্রোন দিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। আমিরাতের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ায় হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
| আক্রমণের ধরন | সংখ্যা | প্রতিহত/ধ্বংস | ফলাফল |
| ব্যালিস্টিক মিসাইল | ১৬৫টি | ১৫২টি ধ্বংস | বাকিগুলো সমুদ্রে বা লোকালয়ে পতিত। |
| ড্রোন (UAV) | ৫৪১টি | ৫০৬টি ধ্বংস | ধ্বংসাবশেষ আবাসিক এলাকায় পড়ে হতাহত। |
| ক্রুজ মিসাইল | ২টি | ২টিই প্রতিহত | সফলভাবে আকাশেই ধ্বংস। |
| মোট হতাহত | ৩ জন নিহত, ৫৮ জন আহত | — | নিহতদের মধ্যে ১ জন বাংলাদেশি। |
আমিরাত সরকারের প্রতিক্রিয়া ও নাগরিক নিরাপত্তা
আমিরাত সরকার এই হামলাকে তাদের ‘জাতীয় সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা মিত্র দেশগুলোর সাথে সমন্বয় করছে। আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসীদের শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের গুজব না ছড়িয়ে কেবল সরকারি নির্দেশিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।







