ইরানে ‘শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের’ লক্ষ্যে ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যাত করে রাজপথে খামেনি সমর্থকরা

ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থা বা ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর লক্ষ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে ইরানি জনগণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের সরাসরি আহ্বান জানান। তবে ট্রাম্পের এই আহ্বান কার্যত বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

ট্রাম্পের ঘোষণা ও বাস্তব চিত্র

শনিবারের ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প ইরানিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “ইরানের জনগণ, আপনাদের সহায়তার জন্যই আমরা এই হামলা চালাচ্ছি। আপনারা এখনই রাস্তায় নেমে আসুন এবং ক্ষমতা দখল করুন।” কিন্তু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই ডাকে সাধারণ ইরানিদের সাড়া দেওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো এই আহ্বান ইরানিদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও বিপ্লবী চেতনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

তেহরানের রাজপথে খামেনি সমর্থকদের মিছিল

ট্রাম্পের আহ্বানের পর তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছেন। তবে তারা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সমর্থনে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে খামেনির ছবি এবং আমেরিকার বিরোধী ব্যানার দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে দেখছে এবং বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশ করছে।

বিশ্লেষণাত্মক ৩টি দিক

  • কূটনৈতিক ব্যর্থতা: ট্রাম্পের সরাসরি ক্ষমতা দখলের আহ্বান ইরানি জনগণের মধ্যে বিদেশি হস্তক্ষেপবিরোধী মনোভাবকে আরও তীব্র করেছে।

  • বিপ্লবী সংহতি: সংকটের মুহূর্তে ইরানিরা অভ্যন্তরীণ মতভেদ ভুলে তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের পেছনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবণতা দেখিয়েছে।

  • ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ: এই হামলা ও উসকানিমূলক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী এবং অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের পথ প্রশস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র- আলজাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top