ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। শনিবার সকালে ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন দফার সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়।
ঘটনার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি
ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে এই হামলা চালানো হয়। ইরানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলী ফরহাদি জানিয়েছেন, স্কুল চলাকালীন তিনটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি ভবনটিতে আঘাত হানে। এতে ঘটনাস্থলেই বহু শিক্ষার্থী প্রাণ হারায় এবং নিহতের সংখ্যা এখন পর্যন্ত ৮৬ জন। এছাড়াও অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্যবস্তু ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি
শনিবারের এই হামলায় মূলত ইরানের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে পশ্চিমা সূত্রগুলো। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এই হামলায় তেহরানের কোনো শীর্ষ নেতার ক্ষতি হয়নি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং তিনি এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় শীঘ্রই জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন বলে আল-আলম টিভি নিশ্চিত করেছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পাল্টা হামলা
শনিবারের এই বড় ধরনের হামলার পর তেহরানও হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। ইরানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে পাল্টা হামলার খবর পাওয়া গেছে। ইরান সরকার জানিয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে এই নতুন সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক
-
বেসামরিক লক্ষ্যবস্তু: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হামলার ফলে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
-
খামেনির ভাষণ: সর্বোচ্চ নেতার আসন্ন ভাষণটি যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
-
পাল্টা জবাব: ইরান সরাসরি পাল্টা হামলা শুরু করায় মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের আশঙ্কা আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে।







