গত বছরের সামরিক সংঘাত এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, ঠিক তখনই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় শুরু হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি), ওমানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয় দফার পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শুরু করেছে। এই বৈঠকটিকে অনেক বিশ্লেষক যুদ্ধের পথ এড়ানোর ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন।
আলোচনার নেপথ্য ও প্রেক্ষাপট-
২০২৪ সালের জুন মাসে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশ ঘটিয়েছেন। এই চাপের মুখে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসতে রাজি হয়েছে, যদিও তারা একে কেবল ‘শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি’ হিসেবে দাবি করে আসছে।
আলোচনার মূল পক্ষ ও প্রতিনিধিগণ-
জেনেভায় এই পরোক্ষ সংলাপে মধ্যস্থতা করছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল বুসাইদি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
দুই পক্ষের অবস্থান ও দাবি-
-
যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি—ইরানকে কেবল ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে এবং তাদের বর্তমান মজুত সরিয়ে ফেলতে হবে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী হতে দেওয়া হবে না। এছাড়াও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধের (Proxy War) বিষয়টি আলোচনার টেবিলে আনতে চাইছে ওয়াশিংটন।
-
ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান একটি ‘ন্যায্য ও দ্রুত’ সমঝোতা চায়, তবে তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করবে না। ইরানের মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত অর্থ ফেরত পাওয়া।
বিশ্ব বাজারের প্রতিক্রিয়া-
এই আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে বিশ্ব তেলের বাজার। যুদ্ধের আশঙ্কায় তেলের দাম ইতিমধ্যে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়, তবে পারমাণবিক স্থাপনায় পুনরায় হামলার ঝুঁকি বাড়বে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আলোচনার ৩টি প্রধান চ্যালেঞ্জ
-
বিশ্বস্ততার অভাব: গত বছরের সামরিক হামলার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার সংকট চরমে।
-
শর্তের ভিন্নতা: যুক্তরাষ্ট্র কেবল পারমাণবিক নয়, ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক ইস্যুও যুক্ত করতে চায়; যা ইরান প্রত্যাখ্যান করছে।
-
অভ্যন্তরীণ চাপ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ওপর অর্থনৈতিক বিপর্যয় ও সামাজিক অসন্তোষ সামলানোর বড় চাপ রয়েছে।







