পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৭তম বার্ষিকীতে শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে আয়োজিত এক শোকসভায় তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির সেই নৃশংসতা ছিল কেবল একটি হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বাংলাদেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার এক সুপরিকল্পিত অপপ্রয়াস।
প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি আজ কেবল সরকারপ্রধান হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি। শহীদ পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। দেশে ফেরার পর তাঁদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি সেই আর্তনাদ অনুভব করেছি।” তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার যে দুর্বলতা তৈরি করা হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠে একটি আধুনিক ও শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যে তিনি সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সময় থেকে এই বাহিনীর সদস্যরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছেন। ১৯৭৮ সালে জিয়ার আমলেই এই বাহিনীকে সামরিক কায়দায় পুনর্গঠন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পিলখানার শহীদদের পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট-
-
সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা: পিলখানা ট্র্যাজেডিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করে সামরিক শক্তিকে আরও সুসংহত করার প্রত্যয়।
-
বিচারের আশ্বাস: গত ১৭ বছরের বিচারহীনতার গ্লানি মুছে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ইঙ্গিত।
-
ঐতিহাসিক যোগসূত্র: ১৯৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে ১৯৭৮-এর বাহিনীর পুনর্গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরা।







