ট্রাম্পের শুল্ক-যুদ্ধ ও আইনি মারপ্যাঁচ: দেশভেদে কার লাভ, কার ক্ষতি?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্কনীতির ওপর দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ‘অবৈধ’ ঘোষণার রায় বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের নাটকীয়তা তৈরি করেছে। আদালতের রায়ে একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষমতা হারনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের একটি মৃতপ্রায় ধারা (সেকশন ১২২) সক্রিয় করে পাল্টা আঘাত হেনেছেন। এর ফলে আগামী মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সব বাণিজ্য অংশীদারের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হতে যাচ্ছে।

আদালতের রায় ও ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’

গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয় যে, ১৯৭৭ সালের ‘আইইইপিএ’ আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপ করতে পারেন না; কারণ কর ও শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের। এই রায়ের ফলে গত বছর ১৫৭টি দেশের ওপর ট্রাম্পের চাপানো শুল্ক অসাংবিধানিক হয়ে পড়ে। কিন্তু ট্রাম্প দমে না গিয়ে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘১২২ ধারা’ ব্যবহার করেন, যা ‘বিরাট ও গুরুতর বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি’ মেটাতে প্রেসিডেন্টকে সাময়িকভাবে (সর্বোচ্চ ১৫০ দিন) ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়। মার্কিন ইতিহাসে এর আগে কোনো প্রেসিডেন্ট এই ধারাটি ব্যবহার করেননি।

দেশভেদে প্রভাব: কার লাভ, কার ক্ষতি?

ট্রাম্পের এই নতুন ১৫ শতাংশ শুল্কের ফলে বিভিন্ন দেশের সাথে হওয়া বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।

দেশের নাম আগের অবস্থা/চুক্তি বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব
ব্রাজিল ৪০% পাল্টা শুল্ক ছিল। সবচেয়ে লাভবান। শুল্ক কমে সরাসরি ১৫% হবে।
ভারত শুরুতে ৫০% শুল্ক ছিল; চুক্তিতে ১৮% করার কথা। চুক্তি বহাল থাকলে ১৮% দেবে, নতুবা ১৫% শুল্কের সুযোগ নিতে পারে।
ইন্দোনেশিয়া ১৯% শুল্কের চুক্তি হয়েছে। চুক্তি বহাল রাখতে আগ্রহী (নিশ্চয়তার জন্য)।
তাইওয়ান ২০% থেকে কমিয়ে ১৫% করার চুক্তি। ৮,৫০০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার বিনিময়ে ১৫% শুল্ক পাচ্ছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বিনিয়োগের বিনিময়ে ১৫% শুল্কের চুক্তি। চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়; জাতীয় স্বার্থ পর্যালোচনার ঘোষণা।
যুক্তরাজ্য অধিকাংশ পণ্যে ১০% শুল্ক। অটোমোবাইল ও ইস্পাতে কমানো শুল্ক নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা।

শুল্কের নতুন বিধিমালা (সেকশন ১২২)

  • কার্যকর হওয়ার তারিখ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

  • শুল্ক হার: সর্বজনীন ১৫% (সব দেশের ওপর)।

  • মেয়াদ: সর্বোচ্চ ১৫০ দিন (কংগ্রেস অনুমোদন না দিলে এর পর বাতিল হবে)।

  • ছাড়প্রাপ্ত পণ্য: গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ, বিশেষ ধাতু এবং জ্বালানি পণ্য।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ১৫০ দিন হবে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের মাধ্যমে একটি স্থায়ী শুল্ক আইন পাসের চেষ্টা করবে। অনেক দেশ (যেমন ভারত বা ইন্দোনেশিয়া) অনিশ্চয়তা এড়াতে বিদ্যমান চুক্তি বহাল রাখতে চাইলেও, ব্রাজিল বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো এই ১৫ শতাংশের সাধারণ হারের সুযোগ নিয়ে বেশি পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top