ভারতের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে বাংলাদেশ: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে দিল্লির নতুন বার্তা

ভারত সরকার বাংলাদেশের সাথে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানিয়েছে, ভারতের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ (Neighborhood First) নীতির আওতায় বাংলাদেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত—সকল ক্ষেত্রেই ঢাকাকে একটি অপরিহার্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে দিল্লি।

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযোগ (Connectivity), বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এছাড়া ভারতের সংসদের স্পিকার ওম বিড়লা দুই দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতা এবং জনগণের সাথে জনগণের (People-to-People) সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, সাধারণ মানুষের স্তরে বন্ধন শক্তিশালী হলে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আরও টেকসই হয়।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের গুঞ্জনের মধ্যেও দিল্লি তার অবস্থানে অনড় থেকে জানিয়েছে, সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতেই তারা বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে আগ্রহী। সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাস দমন এবং নদীর পানিবণ্টনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুগুলোতেও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে ভারত। বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল এবং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান দিল্লির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন উচ্চপর্যায়ের সফরগুলোতে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সম্ভাব্য তিন গতিপথ

  • অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব: সেপা (CEPA) চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি।

  • আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি: রেল ও নৌপথের মাধ্যমে উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাংলাদেশের সংযোগ আরও সহজ করা।

  • জনগণের সংযোগ: ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির বিস্তার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top