ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে ধারাবাহিক সফরের অংশ হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের বাসভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে বেইলি রোডে অবস্থিত সৈয়দ রেজাউল করীমের বাসায় প্রবেশ করেন তিনি। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন ও দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক শক্তির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের যে ‘ইতিবাচক রাজনীতি’ বিএনপি শুরু করেছে, তারেক রহমানের এই সফর সেই উদ্যোগেরই অংশ।
এই সফরের মাধ্যমে তারেক রহমান গত দুই দিনে দেশের প্রধান ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করলেন। উল্লেখ্য, এর আগের দিন রবিবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং রাতে এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে তাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন তিনি। এসব বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতা রোধ, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের পর দলগুলোর মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবার ৩০০ আসনের মধ্যে ২৫৭টিতে প্রার্থী দিয়েছিল, যা দলটির সাংগঠনিক সক্ষমতা ও জনসমর্থন প্রকাশের একটি বড় সুযোগ ছিল। বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হলেও, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন, যা দলটির শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। ইসলামী দলগুলোর সাথে তারেক রহমানের এই বৈঠকগুলো নতুন সরকার গঠনের পর একটি স্থিতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







