অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া তাঁর বিদায়ী ভাষণে জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে ‘জুলাই সনদ’কে অভিহিত করেছেন। সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ গণভোটে বিপুল ভোটের মাধ্যমে এই সনদের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন হলে দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, একটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন সরকার এই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে।
বিগত ১৮ মাসের অর্পিত দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে ড. ইউনূস দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, “আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলব। কী মহা মুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল।” তিনি ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশকে একনায়কতান্ত্রিক শাসন থেকে মুক্তির বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর ভাষণে অচল দেশটিকে সচল করার পেছনের চ্যালেঞ্জ এবং একটি স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্রকে দাঁড় করানোর প্রচেষ্টার কথা ফুটে ওঠে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে ভোটার, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে নজির স্থাপন করেছে, তার প্রশংসা করেন তিনি।







