“জনগণের উদ্দীপনা আর ফলাফলে মিল নেই, কী হয়েছে জানি না”: নির্বাচনী পরাজয়ে মুফতি ফয়জুল করিমের সংশয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের কাছে পরাজয় বরণের পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে নিজের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম। শুক্রবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে গভীর বিস্ময় প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রতি যে স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত চূড়ান্ত ফলাফলের সঙ্গে তার কোনো বাস্তব মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এই অমিল কেন এবং পর্দার আড়ালে কী ঘটেছে, তা নিয়ে চরম ধোঁয়াশায় রয়েছেন বলে জানান এই শীর্ষ ইসলামী নেতা।

মুফতি ফয়জুল করিম তাঁর বক্তব্যে পরাজয়কে বড় করে না দেখে বরং মানবতা ও ইসলামের কল্যাণে কাজ করে যাওয়াকেই বড় সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাহ্যিক পরাজয় ঘটলেও আদর্শিক জায়গা থেকে তিনি সব সময় বিজয়ী। তবে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি তাঁর চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর কিছু উচ্ছৃঙ্খল মানুষ দেশজুড়ে অস্থিতিশীলতা ও ‘মব’ তৈরির চেষ্টা করছে। বিশেষ করে বরিশালের শায়েস্তাবাদ ও মঞ্জিল ফরাজি এলাকায় দুষ্কৃতিকারী একদল লোক বিএনপির নাম ব্যবহার করে তাঁদের নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর তিন কর্মীকে আজ মারধর করার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বিএনপিকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ জুলুম ও অত্যাচার থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ভোট দিয়েছে, নতুন করে কোনো জুলুমের শিকার হতে নয়।

গণতন্ত্রের সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যদি সাধারণ মানুষ নিজেদের পছন্দমতো কাউকে সমর্থনই করতে না পারে, তবে এই ঘটা করে নির্বাচনের কোনো মানে হয় না। তাঁর দাবি, অনেক এলাকায় হাতপাখার বিজয় এবং তাঁকে সমর্থন করার কারণে গুন্ডারা ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিহিংসামূলক হামলা চালাচ্ছে। নির্বাচনের আগের শান্ত পরিবেশ আর ফলাফল পরবর্তী এই সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি। মুফতি ফয়জুল করিমের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন বিএনপি ভূমিধস জয় পেয়ে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন বিরোধী শিবিরের এমন অভিযোগ দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top