বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পর রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও সহাবস্থানের এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠনের প্রাথমিক প্রস্তুতির মাঝেই তিনি সশরীরে দেখা করতে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সঙ্গে। বিএনপির মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সফরের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মূলত একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সকল অংশীজন ও রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার যে ‘ইতিবাচক রাজনীতির’ অঙ্গীকার বিএনপি করেছে, এটি সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই একটি অংশ।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে আগামীকাল রোববার সন্ধ্যা ৭টায় তারেক রহমান রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে পৌঁছাবেন। সেখানে জামায়াত আমিরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও সৌজন্য বিনিময় শেষে তিনি রাত ৮টার দিকে বাড্ডায় নাহিদ ইসলামের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বিজয়ী হয়েছেন; অন্যদিকে ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচনোত্তর পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক বিজয় মিছিল না করার কঠোর নির্দেশনা দিয়ে তারেক রহমান যে ধৈর্য ও রাজনৈতিক পরিপক্কতার পরিচয় দিয়েছেন, শীর্ষ নেতাদের এই ব্যক্তিগত সফর সেই দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ রাজনীতিরই একটি বিশেষ দিক বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সাক্ষাতের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার সঙ্গেই বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে যোগাযোগ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের লড়াই শেষে জয়ী ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে এমন সরাসরি সৌজন্য সাক্ষাৎ বাংলাদেশের প্রথাগত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তারেক রহমানের এই পদক্ষেপে এটি স্পষ্ট হচ্ছে যে, আগামী দিনের ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তে তিনি সকল গণতান্ত্রিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় বজায় রাখতে আগ্রহী। মূলত প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারেক রহমান এই গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতগুলো সম্পন্ন করতে যাচ্ছেন।







