ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সামলানো। ২৯৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ৭৮টি আসনে বিএনপির একাধিক শক্তিশালী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে একজন ছিলেন দলীয় মনোনীত এবং অন্যজন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী)। এই আসনগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
-
দলীয় আধিপত্য: ৭৮টি বিতর্কিত আসনের মধ্যে ৫০টিতেই বিএনপির মূল দলীয় প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে দলের তৃণমূল ভোটারদের বড় অংশই দলীয় প্রতীকের প্রতি অনুগত ছিলেন।
-
বিদ্রোহীদের অবস্থান: নির্বাচনী মাঠে ব্যাপক শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ জন বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হতে পেরেছেন।
-
জামায়াতের কৌশলী বিজয়: বিএনপির এই অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট। বিএনপির ভোট দুই ভাগে ভাগ হওয়ার সুযোগে এই ৭৮টি আসনের মধ্যে ২১টিতে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
যদিও নির্বাচনের আগে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপিতে ব্যাপক উৎকণ্ঠা ছিল, তবে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে দলটি সেই পরিস্থিতি অনেকাংশেই সামাল দিতে পেরেছে। তবে জামায়াতের কাছে ২১টি আসন হারানো এটিই নির্দেশ করে যে, যেখানেই বিএনপির ঐক্য শিথিল ছিল, সেখানেই জামায়াত তাদের সংসদীয় শক্তি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।







