ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের বিষয়ে সকল আইনি জটিলতা ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে বঙ্গভবনের অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিগত ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বিশেষ পরিস্থিতিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা এড়াতে এই বিশেষ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধান বিচারপতিকে রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
পূর্বতন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকেই নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। সাধারণত নবনির্বাচিত এমপিরা বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের কাছে শপথ গ্রহণ করলেও এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে কারাবন্দী ও দণ্ডিত। এ অবস্থায় বর্তমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ করাতে অসমর্থ হলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বিশেষ আইনি কাঠামোর কথা এর আগে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও গণমাধ্যমে উল্লেখ করেছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের জোর প্রস্তুতি চলছে। আইন উপদেষ্টার পূর্ববর্তী ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যদি তিন দিনের মধ্যে স্পিকারের মাধ্যমে শপথ সম্ভব না হয়, তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারেরও শপথ পড়ানোর এখতিয়ার রয়েছে। তবে সরকার প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই চব্বিশের বিপ্লব পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
এমপিদের শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পাওয়া দল অর্থাৎ বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন। এরপরই দীর্ঘ দেড় দশক পর বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে। এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।







