ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নিরঙ্কুশ ও ভূমিধস বিজয়ের পর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানরা উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বিএনপি। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ এশিয়া ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সরকারপ্রধানরা তারেক রহমানকে টেলিফোন এবং বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, যা আগামী দিনে বাংলাদেশের নতুন কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুক্রবার নিজেই তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানান এবং দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধনের কথা স্মরণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন যে, বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে তারেক রহমানের প্রচেষ্টার প্রতি ভারতের পূর্ণ সমর্থন ও শুভেচ্ছা রয়েছে। তিনি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে শান্তি, অগ্রগতি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ভারতের এই সরাসরি অভিনন্দন বার্তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও পৃথক বার্তায় বিএনপি ও তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁরা এই বিজয়কে একটি সফল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে পারস্পরিক অগ্রগতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এই বিজয়কে ‘প্রকৃত অর্থেই গণতন্ত্রের জয়’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের মানুষ নানা চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূলতা পার করে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে যে রায় দিয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট। আনোয়ার ইব্রাহিম তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রশংসা করে দুই দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈশ্বিক পরাশক্তি চীনও পিছিয়ে নেই এই দৌড়ে; ঢাকায় নিযুক্ত চীনা দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিকে বিজয়ের শুভেচ্ছা জানিয়েছে এবং একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন দিয়েছে। এছাড়া মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জু ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তারেক রহমানের প্রতি বিশ্বনেতাদের এই ধারাবাহিক অভিনন্দন বাংলাদেশের আসন্ন নতুন সরকারের জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বৈধতা ও সমর্থনের ভিত্তি তৈরি করেছে।







