সারাদেশে হামলা বন্ধ ও জুলাই সনদ কার্যকরের দাবি: নির্বাচন কমিশনের দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগে জামায়াত আমির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতিতে সারা দেশে ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিত হামলা, বাড়িঘর ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজারস্থ জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের এক জরুরি বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। তিনি অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন যে, দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই ধরনের সহিংসতা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি কর্মীর জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াত ও তাদের জোটের উদারতাকে যদি কেউ দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করে তবে তা সংশ্লিষ্টদের জন্য চরম বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

নির্বাচনী ফলাফলের স্বচ্ছতা নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে বেশ কিছু গুরুতর প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন ব্যালট পেপার সংক্রান্ত একই ধরণের ইস্যুতে দুটি ভিন্ন আসনে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ঢাকা-৮ আসনে যে আইনি প্রক্রিয়া বা ব্যালটের যৌক্তিকতা গ্রহণ করা হয়েছে, ঠিক একই ধরণের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-১৩ আসনে তা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের আসনেও একই ধরণের ‘অন্যায়’ ও ‘পক্ষপাতমূলক’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জনমনে সংশয় তৈরি করছে এবং এটি সুস্থ রাজনীতির অন্তরায়।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির রূপরেখা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন যে, দেশ এখন একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এবারের নির্বাচনের সমান্তরালে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হওয়ায় তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অবিলম্বে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। তাঁর মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে যে সনদ তৈরি হয়েছে, তা কার্যকর করার মাধ্যমেই দেশে কোনো ধরণের ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকানো সম্ভব। জনগণের সাথে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত ১১-দলীয় জোট রাজপথের লড়াই চালিয়ে যাবে বলেও তিনি অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, জোটের লক্ষ্য কেবল ক্ষমতা নয়, বরং একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা যেখানে প্রতিহিংসার কোনো স্থান থাকবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top