“জনগণ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছে, ভূমিধস বিজয়ে বিএনপিই দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল”: ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন যে, দেশের সাধারণ মানুষ উগ্রপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করে বিএনপির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বিএনপি নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ (Two-third majority) আসন অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাদের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণ সব সময় সৎ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির পক্ষে থাকে এবং এবারের ভোটের ফলাফল প্রমাণ করেছে যে অপপ্রবণতার বিরুদ্ধে দেশের মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। বিএনপি মহাসচিবের মতে, এই বিজয় কেবল একটি ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী বার্তা।

নির্বাচনের এই বিশাল জয়কে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি কখনোই কোনো বিশেষ ক্যাডারভিত্তিক রাজনৈতিক দল ছিল না, বরং এটি একটি গভীর গণভিত্তিসম্পন্ন রাজনৈতিক সংগঠন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকে এই দল সব সময় জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে থেকেছে বলেই আজও এর জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক বছর ধরে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের যেসব রূপরেখা এবং ২০৩টি পয়েন্ট সংবলিত ম্যানিফেস্টো বা ভিশন ঘোষণা করেছিল, জনগণ তা সাদরে গ্রহণ করেছে। এই ভূমিধস বিজয় মূলত বিএনপির সেই আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্রচিন্তারই প্রতিফলন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, বিএনপিই বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শক্তিশালী রাজনৈতিক মঞ্চ।

নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে যারা রাজপথে বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনে শামিল ছিল, সেই সকল শক্তি ও শরিকদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবেই তাঁরা আগামী দিনের সরকার গঠন করবেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ চলায় যারা সাথী ছিল, তাঁদের প্রতি বিএনপির প্রতিশ্রুতি অটল রয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক শক্তি বৃদ্ধি বা উত্থান সম্পর্কে তিনি একটি রাজনৈতিক তত্ত্ব উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, যখন কোনো দেশে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সংকুচিত হয়, তখনই উগ্রবাদী শক্তিগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পায়। আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসন এবং বিরোধী দলকে দমনের নীতিই মূলত এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে তিনি দাবি করেন।

পরিশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি সব সময় জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে পথ চলে এবং আগামী দিনেও তারা সেই আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখবে। জনগণের দেওয়া এই বিশাল ম্যান্ডেটকে সম্মান জানিয়ে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। মতবিনিময় সভায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনোত্তর এই পরিস্থিতিতে ফখরুলের এমন বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top