ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ভোটগ্রহণ সম্পন্ন: জাতিকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন ও নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের লক্ষে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণভোট অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন যে, আজকের এই অভাবনীয় অর্জন আমাদের গণতন্ত্রের প্রতি অটুট অঙ্গীকারেরই এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত ও বিপুল অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ এই নির্বাচনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রধান উপদেষ্টার মতে, প্রার্থীদের রাজনৈতিক সংযম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আজ বিশ্ববাসীর সামনে প্রমাণ করেছে যে, বাংলাদেশের মানুষ তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা সচেষ্ট ও সচেতন।

এই বিশাল এবং জটিল গণতান্ত্রিক আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করার পেছনে যারা নিরলসভাবে কাজ করেছেন, তাঁদের প্রতিও তিনি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন কমিশন থেকে শুরু করে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বেসামরিক প্রশাসন, দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক দল এবং দিনভর সংবাদ সংগ্রহে ব্যস্ত থাকা গণমাধ্যমকর্মীদের সাহসী ভূমিকাও তিনি গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছে।

নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ড. ইউনূস রাজনৈতিক দল ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার পরও যেন সবার মধ্যে গণতান্ত্রিক শালীনতা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ অটুট থাকে। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্নতা থাকাটা একটি সুস্থ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য হলেও বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে এবং নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণে সবাইকে একটি ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশ আজ আবারও বিশ্বের দরবারে প্রমাণ করেছে জনগণই রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার প্রকৃত উৎস। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের যে মহতী যাত্রা শুরু হলো, তা দেশকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যাবে। পরিশেষে তিনি এই নির্বাচনকে ‘নতুন বাংলাদেশের’ এক অভূতপূর্ব উৎসব হিসেবে বর্ণনা করেন এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করার এই ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আমন্ত্রণ জানান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top