ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন জনপ্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অর্পণ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের রুটিন কাজ চালিয়ে যাবেন। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা ও ছুটির রেশ কাটিয়ে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি রবিবার থেকে অধিকাংশ উপদেষ্টা পুনরায় সচিবালয়ে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরবেন বলে জানা গেছে। তবে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তাঁরা সাধারণত কোনো নীতিনির্ধারণী বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত থাকবেন। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ ও বিভিন্ন উপদেষ্টার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নতুন মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র পরিচালনার এই সাময়িক ব্যবস্থার একটি শক্ত আইনি ভিত্তি রয়েছে দেশের বিদ্যমান সংবিধানে। সংবিধানের ৫৭ (৩) এবং ৫৮ (৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উত্তরসূরিরা কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত পদাধিকারীরা নিজ নিজ পদে বহাল থাকতে পারেন।
নির্বাচন পরবর্তী এই রূপান্তরকালে বিভিন্ন উপদেষ্টার কর্মপন্থা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে, নতুন মন্ত্রিসভা দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে কোনো আইনি বাধা নেই এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও এই মর্মে কোনো বিশেষ ভিন্ন নির্দেশনা আসেনি। অন্যদিকে, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন রবিবার দপ্তরে উপস্থিত হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও জরুরি কোনো ফাইল সই করার মতো বিষয় তাঁর তালিকায় নেই বলে জানিয়েছেন। তবে নৈতিকতার প্রশ্নে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি মনে করেন, নির্বাচনের পর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সমীচীন নয়। ফলে তিনি ইতিধ্যেই তাঁর দাপ্তরিক শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন। ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেনও সচিবালয় থেকে একপ্রকার আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন এবং প্রয়োজন হলে তিনি তাঁর বাসভবন থেকেই দাপ্তরিক সমন্বয় করবেন বলে জানিয়েছেন।
আগামী সপ্তাহের কর্মব্যস্ততার একটি সম্ভাব্য সময়রেখাও ইতিমধ্যে প্রশাসনের অন্দরমহলে স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৬ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং এর পরপরই ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির দিকে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে বর্তমান উপদেষ্টাদের দায়মুক্তি ঘটবে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এবং খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদারের মতো অনেকেই রুটিন দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছেন। যদিও অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সচিবালয়ে ফেরার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়, তবে সংবিধান অনুযায়ী তাঁদের সবারই পদমর্যাদা ও দায়িত্ব পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত অক্ষুণ্ণ থাকবে। মূলত ক্ষমতার সুষ্ঠু ও নিয়মতান্ত্রিক হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতেই এই মধ্যবর্তী সময়ে উপদেষ্টাদের দপ্তর সচল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।







