আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে জাতির উদ্দেশে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ১৮ মিনিটের এই দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি মূলত তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেনজি’ এবং নারী সমাজের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি উন্নত ও আধুনিক রাষ্ট্র গঠনের কারিগর হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। তাঁর মতে, জনগণ বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর আমূল পরিবর্তন চায় এবং এই পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীই সবচেয়ে যোগ্য শক্তি।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভাষণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভীতিমুক্ত সমাজ গঠনের সুস্পষ্ঠ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—সবার জন্য সমান অধিকারের দেশ। এখানে কেউ কোনো বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করবে না। অতীতে যেমন জামায়াতে ইসলামী সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করেছে, ভবিষ্যতেও যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আঘাত করার চেষ্টা করে, তবে তা অত্যন্ত কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন। তাঁর দৃষ্টিতে রাষ্ট্র পরিচালনা বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো ব্যক্তিগত উপভোগের বিষয় নয়, বরং এটি একটি মহান আমানত ও পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বিশ্বাস করেন যে, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যদি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকে, তবেই একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
নারী সমাজের নিরাপত্তা ও সম্মানের বিষয়টি ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি এমন এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যেখানে দেশের কোনো মা কিংবা বোনকে ঘরের বাইরে কিংবা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। নারীদের অধিকার রক্ষা এবং তাঁদের জন্য একটি সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করার লড়াইয়ে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে তাঁদের সঙ্গী হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি বিশেষ আস্থা প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান যুবসমাজের যে আকাঙ্ক্ষা, তা জামায়াতে ইসলামীর মাধ্যমেই সার্থক রূপ পাবে।
ভবিষ্যৎ সরকার পরিচালনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জামায়াত আমির একটি ব্যতিক্রমী ও ধর্মপ্রাণ নেতৃত্বের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের বিপুল সমর্থনে যদি তাঁরা সরকার গঠন করতে পারেন, তবে বিজয়ের পর প্রথম দিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তাঁরা দেশের কল্যাণে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করবেন। বিলম্ব না করে দ্রুততম সময়ে জনহিতকর কাজ শুরু করার এই মানসিকতা মূলত তাঁর দলের কর্মতৎপরতা ও নিষ্ঠারই বহিঃপ্রকাশ। পরিশেষে তিনি দেশবাসীকে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়ানোর এবং একটি নিরাপদ, আধুনিক ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।







