নির্বাচনের প্রাক্কালে সোমবার রাতে জাতীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচারিত এক বিশেষ ভাষণে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র গঠনের একটি মৌলিক এবং মানবিক রূপরেখা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, যতক্ষণ পর্যন্ত দেশের জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না, ততক্ষণ পর্যন্ত জাতীয় উন্নয়ন কিংবা গণতন্ত্রের সুফল কোনোটিই টেকসই হবে না। তাঁর মতে, নাগরিকদের দুর্বল বা ক্ষমতাহীন রেখে রাষ্ট্রকে কৃত্রিমভাবে শক্তিশালী করা অবাস্তব একটি চিন্তা। একটি প্রকৃত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য প্রতিটি স্তরে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ এবং তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করাকে তিনি বিএনপির প্রধান অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করেন।
রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন যে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রধান শর্তই হলো প্রতিটি নাগরিকের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার অধিকার। এই অধিকারকে কেবলমাত্র জাতীয় নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় পর্যায়ের পরিষদগুলোর মাধ্যমে একদম তৃণমূলের মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে হবে। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেন, ক্ষমতা যখন কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের হাতে কুক্ষিগত হয়, তখন রাষ্ট্র তার ভারসাম্য হারায় এবং ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। বর্তমান সংকট উত্তরণে তিনি পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, দেশ থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পদ যদি ফিরিয়ে আনা যায়, তবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং বেকার ভাতার মতো জনকল্যাণমূলক বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অর্থের কোনো অভাব হবে না। পাচারকৃত সেই সম্পদ উদ্ধার করে সাধারণ মানুষের কল্যাণে ফিরিয়ে দেওয়াই হবে তাঁর দলের মূল লক্ষ্য।
প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে বিএনপির স্বচ্ছ অবস্থানের কথা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে তার আপন মহিমায় এবং সংবিধানের নির্দেশ অনুযায়ী পরিচালিত হতে হবে। তিনি এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন যেখানে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের দেশের মালিক মনে না করে জনগণের প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করবেন। বিগত বছরগুলোর প্রশাসনিক দলীয়করণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি পদ-পদবিকে যখন ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের হাতিয়ার বানানো হয়, তখন রাষ্ট্রের ভিত্তি ফোকলা হয়ে যায়। এই পরিস্থিতি বদলে বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের এই সংগ্রাম কেবল ক্ষমতার পট পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের হাত থেকে মুক্ত করে সেগুলোর মালিকানা পুনরায় জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন যে, মেধার মূল্যায়ন এবং শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে তাঁর সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একটি ইনসাফভিত্তিক এবং ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র গঠনে তিনি দেশবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।







